Wednesday, April 29, 2015
ডায়বেটিস রোগ কেন হয়?
ডায়বেটিস হলো রক্তের উচ্চ গ্লুকোজ জনিত স্বাস্থ্য সমস্যা। তেল ছাড়া রেলগাড়ি নামের যন্ত্রটি চলে না। মানবদেহ এক ধরনের যন্ত্র। আর এই যন্ত্রের তেল হচ্ছে গ্লুকোজ নামের একটি পদার্থ। রেলগাড়ির তেল জ্বালাতে যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, তেমনি আমাদের দেহের গ্লুকোজকে কাজে লাগাতে হলে ইনসুলিন নামের একটি পদার্থের প্রয়োজন। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্ত থেকে গ্লুকোজের কণাগুলোকে টেনে এনে দেহের কোষে দেওয়া। এই ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় থেকে। যখন অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা তৈরি হওয়া ইনসুলিন দেহ ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারে তখনই রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর এর ফলে দেহে তৈরি হয় নানা অসামঞ্জস্য। এর নাম ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ।
ডায়াবেটিস রোগী যে খাদ্য গ্রহন করছে তা থেকে তৈরি হচ্ছে গ্লুকোজ। আর এই গ্লুকোজের সবটুকু তার দেহে ব্যবহার হচ্ছে না, অর্থাৎ তার রক্তে মিশে থাকছে অতিরিক্ত গ্লুকোজ । এতে করে তার রক্ত হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন। এই ঘন রক্ত চিকন চিকন রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এবং তা আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে রক্ত চলাচলের পথ। আর যে পথে রক্ত পৌঁছাবে না সে পথে কোনো অক্সিজেনও পৌঁছায় না। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শরীরের ভিতরকার কোষ বাঁচতে পারে না। তার মানে কতগুলো টিস্যুর নির্ঘাৎ মৃত্যু। এমন করে অঙ্গহানির পথে এগোবে শরীর যন্ত্র। অতিরিক্ত গ্লুকোজ মেশা ঘন রক্ত ছাকতে গিয়ে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, একে একে সব অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে অসম্ভব দ্রুতগতিতে।
ডায়বেটিস যে শুধু বয়স্ক ব্যাক্তিদের হয় তা নয়। শিশুদেরও হতে পারে ডায়বেটিস।ইদানীংকালে শারীরিক কর্মকাণ্ড (খেলাধুলা, ব্যায়াম ইত্যাদি) কমে যাওয়ার কারণে অনেক অল্পবয়সী শিশু-কিশোরদেরও ডায়বেটিস হচ্ছে। সুষম খাদ্য এবং ব্যায়াম চর্চার অভাবে ডায়বেটিস এ আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু ডায়বেটিস বা বহুমুত্র রোগে ভুগছে। ডায়বেটিসে আক্রান্ত একজন বয়সী ব্যক্তির মধ্যে যে ধরণের উপসর্গ দেখা দেয় তার সবই শিশুরোগীদের মধ্যেও দেখা দেয়।
ডায়বেটিস এর প্রকারভেদঃ
ডায়বেটিস ২ রকম।
টাইপ ১ ডায়বেটিস খুব দ্রুত উপসর্গ দেখায় এবং খুব দ্রুত ডেভেলপ করে, সাধারণত সপ্তাহ দুই-তিনেকের মধ্যে। উপসর্গগুলো তাড়াতাড়ি চলেও যায় যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।
টাইপ ২ ডায়বেটিস খুব ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে, কয়েক বছর ধরে। কেবলমাত্র নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করানোর মাধ্যমেই তা ধরা পড়া সম্ভব। নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখলে উপসর্গগুলো দূর করা সম্ভব।
উপসর্গঃ
প্রধান উপসর্গসমূহের মধ্যে যেগুলো সাধারণত দেখা যায়ঃ
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, বিশেষ করে রাতে।
- ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়া।
- খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া।
- হঠাৎ করে দ্রুতহারে ওজন হ্রাস পাওয়া।
- যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশান দেখা দেয়া।
- শরীরের কোথাও কেটে ছিড়ে গেলে, খুব আস্তে ধীরে ক্ষত শুকানো।
- ঝাপসা দৃষ্টি।
ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা কাদের বেশীঃ
যাদের বংশে ডায়বেটিস রোগ আছে তাদের টাইপ ১ ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা বেশী। এছাড়া টাইপ ২ ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা বেশী হয় বয়সের সাথে - বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী হয়।
ক. এশিয়ান এবং আফ্রিকানদের ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী।
খ. একজন মা যখন বেশী ওজনের সন্তান গর্ভে ধারন করেন তখন তার ডায়বেটিসের
সম্ভবনা বেশী
গ. ওজন বেশী যেমন পুরুষের কোমড়ের মাপ ৩৫ ইন্চির বেশী এবং মহিলাদের ৪০ ইন্চির
বেশী হলে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী দেখা যায়।
ঘ. অলস জীবনযাপন করলে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী থাকে।
প্রতিরোধঃ
কিছু কিছু নিয়ম পালন করলে ডায়বেটিস থেকে সাবধানে থাকা যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েকটি সহজ উপায় চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ।
১.স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড (বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিজা, শর্মা, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাইজ ইত্যাদি), কোমল পানীয় এবং চকলেটসহ যেকোনো মিষ্টি খাবারেই ডায়বেটিসের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এগুলো থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন এবং তাদের এসব খেতে নিরুৎসাহিত করুন, সহজ ভাষায় এর অপকারিতা বর্ণনা করুন। ঘরের খাবার খাওয়ার অভ্যেস করুন। এবং প্রতিদিনের খাবারের চার্টে প্রচুর ফল ও শাকসবজি রাখুন। প্রতিদিন নির্দ্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২.নিজে নিয়ম করে দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন, সাথে আপনার সন্তানকেও বলুন আপনার সাথে যোগ দিতে। আপনার উৎসাহই পারে তাদের সুস্থ রাখতে।
৩.স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা(বি এম আই ১৮.৫- ২৪.৯ এর মধ্যে রাখা)। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ৭০ শতাংশ ঝুকি কম থাকে এবং স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার অশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম।
৪. ধূমপান করে থাকলে বর্জন করুন এবং মদ্যপান পরিহার করুন।
৫.বাসায় একটি ডায়বেটিস পরিমাপের যন্ত্র কিনে নিতে পারেন, যাকে ইংরেজিতে বলে গ্লুকোমিটার। ইদানীং বাজারে সস্তায় এগুলো পাওয়া যায়। নিয়ম করে, মাসে অন্তত একবার পরিবারের সবার ডায়বেটিস পরীক্ষা করুন।
অনেক ডায়বেটিস রোগীকেই দেখা যায় নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন নিতে। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না! পুণরায় বলছি, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না!যাদের ইতোমধ্যে ডায়বেটিস আছে, এবং যারা প্রেস্ক্রাইবড ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারা দীর্ঘসময় ধরে খালি পেটে থাকবেন না। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজ খুব বেশি কমে যাওয়া) হয়ে যেতে পারে যার ফলাফল খুব একটা সুখকর নয়।এই গাইডলাইনগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়।
ভয়াবহতাঃ
ডায়াবেটিস স্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে।অন্যদের তুলনায় ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির হৃৎরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের আশংকা থাকে ৪ গুণ বেশি।
ঔষধঃ
ডায়বেটিসের যেসব পথ্য আছে এর মধ্যে ইনসুলিন এবং কিছু ওষুধ রয়েছে। এদের মূল কাজ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা। তবে এসব ওষুধ কিছুটা ব্যয় বহুল।
Tuesday, April 28, 2015
কান: সমস্যা ও সমাধান
নাক, কান ও গলা শরীরের এই তিনটি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি হতে পারে। সাধারণ হাঁচি-সর্দি থেকে শুরু করে গলার ক্যান্সার সবই রয়েছে এই তালিকায়। স্বল্পপরিসরে সেইসব রোগের কয়েকটি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হল।
কানপাকা রোগ : কানের রোগগুলোর অন্যতম। কান পাকা রোগ দুই ধরনের। একটি হচ্ছে নিরাপদ ধরনের, অন্যটি মারাত্মক ধরনের। নিরাপদ ধরনের কানপাকা রোগে কান থেকে কানের পর্দা ছিদ্র থাকে। কান দিয়ে পুঁজ পড়ে। কানেব্যথা হয়, কান চুলকায়, কানে কম শোনা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু ওষুধ ব্যবহার করে ও উপদেশ মেনে চলে রোগ নিরাময় করা যায়। তবে এতে কানের পর্দা জোড়া লাগেনা। তবে অপারেশন করে কানের পর্দা জোড়া লাগানো যায়। মারাত্মক ধরনের কানপাকা রোগে কান দিয়ে সবসময় একটু করে কষের মত ঝরে। কানের এই কষ পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা এই দুর্গন্ধ থেকেই রোগটির ধরণ বুঝতে পারেন। মারাত্মক ধরনের কানপাকা রোগে অপারেশনই হচ্ছে প্রকৃত চিকিত্সা। উভয় ধরনের কানপাকা রোগ জটিল হয়ে কানের পুঁজ মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এ ধরনের জটিলতায় কানে অপারেশন লাগে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য এই অপারেশন করতে হয়। কান পাকা রোগ নিয়ে কখনোই হেলা ফেলা করা উচিত নয়।
মধ্যকর্ণে প্রদাহ : এই সমস্যা শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। তবে বড়দেরও হয়ে থাকে। সাধারণত উর্ধ্বশ্বাসনালীর প্রদাহ, টনসিলের ইনফেকশন, এডিনয়েড নামক গুচ্ছ লসিকা গ্রন্থির বৃদ্ধি ইত্যাদি থেকে এই ইনফেকশন হয়ে থাকে। এই রোগে কানে বেশ ব্যথা হয়, কান বন্ধ মনে হয়। সঠিক সময়ে এই রোগের চিকিত্সা না করলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে রোগটি কান পাকা রোগে রূপ নিতে পারে। এন্টিবায়োটিক ও নাকের ড্রপসহ অন্যান্য ওষুধ হচ্ছে এই রোগের চিকিত্সা।
মধ্যকর্ণে পানির মত তরল জমা : এই রোগের কারণও উপসর্গ অনেকটা মধ্যকর্ণে প্রদাহের মতই। তবে উপসর্গসমূহের তীব্রতা অনেক কম থাকে। সাধারণ ওষুধেই এ রোগ সারে। অনেক সময় ছোট্ট অপারেশন করে মধ্যকর্ণে জমে থাকা পানি বের করে দিতে হয়।
কানে ফাঙ্গাস ও কানে ক্ষত : কানের মধ্যে অনেক সময় ফাঙ্গাস এবং ক্ষত হয়। সাধারণত কান খোঁচানোর জন্য কানের মধ্যে ফাঙ্গাস হয়ে থাকে। কান পরিষ্কার করা কিংবা কান খোঁচানো অনেক সময় একই বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এসব কাজে ব্যবহার করা হয় কটনবাড থেকে মুরগির পালক, কলমের মুখ, চুলের ক্লিপ ইত্যাদি। এসব কিছুই কানের এই রোগটির জন্য দায়ী। কানে ফাঙ্গাস হলে কান মূলত চুলকায়। সাথে ইনফেকশন বেড়ে প্রদাহ হলে ব্যথা হয়, কষ ঝরে ও কান বন্ধ হয়ে থাকে। অনেক সময় কানের ভিতরে ক্ষত হয়ে ফাঙ্গাসের সাথে কানের বাইরের পথটিতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ব্যথা মারাত্মক আকার ধারন করে। তবে চিকিত্সায় পুরো সেরে যায়। তবে ওষুধের চিকিত্সা শুরুর আগে ইএনটি বিশেষজ্ঞ দিয়ে কান পরিষ্কার করিয়ে নিতে হবে।
কানে ওয়াক্স বা খোল : কানে ওয়াক্স বা খোল অতি পরিচিত সমস্যা। এই খোল অনেকেই পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। নিজে এটি পরিষ্কার করা ঠিক নয়। নিজে পরিষ্কার করতে গেলে জমে থাকা খোলের বেশিরভাগই ভিতরে চলে যায়। ফলে বিপত্তি আরো বাড়ে। কানে খোল আটকে গেলে কানে ব্যথা হয়, কানে কম শোনা যায় কান বন্ধ থাকার কারণে। ইএনটি স্পেশালিস্ট কান দেখে এটি পরিষ্কার করে দিতে পারেন। তাবে পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে খোল গলানোর ওষুধ রয়েছে। তাতেও কাজ না হলে কিংবা অবস্থা বেশি খারাপ হলে অজ্ঞান করে কান পরিষ্কার করে দিতে হয়। যাদের কানে খোল হওয়ার প্রবনতা রয়েছে তারা নিয়মিত কানে ৪/৫ ফোঁটা করে অলিভ অয়েল দিতে পারেন।
চোখের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন
চোখে জ্বালা-পোড়া হওয়া বা চুলকানো খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এই সমস্যাটি হয়ে থাকে পরিবেশ খুব দূষিত হওয়ার জন্য অথবা যে ঋতুতে এলার্জি খুব বেশি হয়ে থাকে। তবে চোখে যখন চুলকানি বা জ্বালা-পোড়া হয় তখন হাত দিয়ে চুলকানোর মাধ্যমে আরও বেশি খারাপ আঁকার ধারণ করে থাকে।
তাই এই সমস্যায় খুব দ্রুত ও সহজ উপায়ে বাসাতেই কিছু সাধারণ কাজের মাধ্যমে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এবং এই জিনিসগুলো আপনি হাতের কাছে রান্না ঘরেই পাবেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কীভাবে সারিয়ে তুলবেন চোখের এই সমস্যা। তবে যদি চোখের সমস্যা খুব খারাপ আঁকার ধারণ করে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে ভুলবেন না।
গোলাপজ্বল
খাঁটি গোলাপজ্বল চোখের চুলকানি সমস্যা রোধ করতে খুব সহায়ক। এটি চোখকে শীতল ও ঠাণ্ডা করে এবং সমস্যা রোধ করে।
১। প্রতিদিন ২ বার গোলাপজ্বল দিয়ে আপনার চোখ ধুয়ে নিন।
২। আপনি চাইলে গোলাপজ্বল ড্রপ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। চোখের চুলকানি সমস্যায় দু’চোখে ৩ ফোঁটা করে গোলাপজ্বল দিন।
ঠাণ্ডা দুধ
চোখের চুলকানি সমস্যা রোধ করার জন্য দুধও খুব উপকারী।
১। ঠাণ্ডা দুধে একটি কটন বল ভিজিয়ে চোখের চারপাশে ঘষুন। চাইলে কটন দুধে ভিজিয়ে চোখের ওপরে কিছুক্ষণ দিয়ে রাখতে পারেন।
২। চোখের চুলকানি সমস্যায় প্রতিদিন ২ বার সকালে ও সন্ধ্যায় এই পদ্ধতিটি পালন করুন।
লবণপানি
লবণপানিও খুব কার্যকরী চোখের চুলকানি সমস্যা রোধ করতে। লবণপানি চোখে দেয়ার ফলে চোখের সমস্যা রোধ এবং লবণের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
১। এক কাপ পরিষ্কার পানিতে ১ চামচ লবণ মিশিয়ে নিন এরপর বয়েল করে নিন।
২। বয়েল করা হয়ে গেলে লবণপানি ঠাণ্ডা হতে দিন এবং এই পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন।
৩। এই পদ্ধতি দিনে ২/৩ বার পালন কর
ডায়াবেটিসে চোখের সমস্যা ও করণীয়
ডায়াবেটিস শরীরের যেসব অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে, এর মধ্যে অন্যতম হলো চোখ। এতে চোখের সর্বস্তরের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে রেটিনার ক্ষতিই সবচেয়ে মারাত্মক। কেননা ডায়বেটিস রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা থেকে যায়। আর চক্ষু পার্শ্বস্থিত অন্য উপাদানগুলো জড়িত হলে দৃষ্টি অস্বচ্ছ হতে পারে। কিছু সমস্যা রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীর চোখের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালির সমস্যাই মূলত এ জন্য দায়ী। চোখের এসব সমস্যা ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। ক. নন-প্রলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (ঘচউজ), খ. প্রলিফারোটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (চউজ) ও গ. মাকুলার ইডিমা।
ডায়াবেটিস রোগীর চোখে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি : ক. ডায়াবেটিসের উপস্থিতির সময়কাল, টাইপ-১ ও টাইপ-২Ñ উভয় ধরনের ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে তা প্রয়োজন। খ. ঠিকমতো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করায় ব্যর্থতা। গ. উচ্চরক্তচাপ। ঘ. প্রস্রাবে আমিষের (প্রোটিনের) উপস্থিতি। ঙ. রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল। ঙ. গর্ভধারণ। চ. রক্তস্বল্পতা।
ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিতভাবে চোখের কাঠামোগত পরিবর্তনের হিসাব রাখতে হবে। এ জন্য ডায়াবেটিস ধরা পড়ার সময় থেকে শুরু করে প্রতি ২ বছর কমপক্ষে একবার চক্ষু পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো সমস্যা থাকলে (রেটিনোপ্যাথি) চক্ষু বিশেষজ্ঞের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের কারও কারও উচ্চ ইন্ট্রা-অকুলার (ওঙখ) চাপ থাকতে পারে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি থেকে রক্ষা পেতে হলে নিয়মিত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ জন্য যা করতে হবে, তা হলো কঠোরভাবে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডায়াবেটিস রোগীদের ১৩০/৭০ মিলিমিটার পারদ রাখতে পারলে ভালো। এক্ষেত্রে এসিইআই (অঈঊও) ও এআরবি (অজই) জাতীয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধগুলো ভালো।
যা মনে রাখতে হবে : ক. সময়মতো ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করতে পারলে দৃষ্টি শক্তি হারানোর আশঙ্কা কমে যায়। খ. ডায়াবেটিসের স্থায়িত্ব সময়কালে রেটিনোপ্যথির তীব্রতা ও চক্ষুগোলকের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। গ. চিকিৎসা করেও মারাত্মœক চোখের সমস্যায় তেমন উন্নতি করা যায় না। এতে চোখের ক্ষতির পরিমাণ স্থবির হয়ে যায়। ঘ. যাদের দৃষ্টিশক্তি ক্রমেই কমতে শুরু করেছে এবং ইন্ট্রা-অকুলার চাপ বাড়ছে, তাদের চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। ঙ. ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সি ডায়াবেটিস রোগীÑ যাদের এক বছরের বেশি ডায়াবেটিস আছে এবং ৩০ বছরের বেশি বয়সের ডায়াবেটিস রোগীদের চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।
ইদানীং লেজার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডায়াবেটিস রেটিনেপ্যাথির রোগীদের। এতে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা অনেক কমেছে। - See more at: http://www.dainikamadershomoy.com/2015/02/18/15887.php#sthash.oYdq9yc5.dpuf
কম্পিউটার থেকে চোখের সমস্যা
কম্পিউটার অক্ষরগুলো ছাপার অক্ষরের মতো নয়। ছাপার অক্ষরগুলোর মধ্যভাগ এবং পাশের ঘনত্ব একই রকম। এগুলো দেখার জন্য চোখের ফোকাস সহজেই করা যায়, অন্যদিকে মনিটরের অক্ষরগুলোর শুধু মধ্যভাগ ভালো দেখা যায়, কিন্তু পার্শ্বভাগের ঘনত্ব কম হওয়ায় ফোকাসে পরিষ্কার আসে না
এম নজরুল ইসলাম
অধ্যাপক, চক্ষু বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
কম্পিউটার মনিটরে নিয়মিত ও অনেকক্ষণ কাজ করলে চোখে নানা সমস্যা ও উপসর্গ দেখা দিতে পারে- এ অবস্থাকে বলা হয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রম।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে যারা প্রতিদিন কম্পিউটারে কাজ করে থাকেন, তাদের ৮৮ শতাংশের সামান্য থেকে বেশি- নানা মাত্রার চোখের উপসর্গ রয়েছে।
উপসর্গ
মাথাব্যথা, চোখে ব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া করা, চোখে ক্লান্তি বোধ করা, ঝাপসা দেখা বা মাঝে মধ্যে একটি বস্তু দুটি দেখা, ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা।
কারণ
কম্পিউটারের অক্ষরগুলো ছাপার অক্ষরের মতো নয়।
ছাপার অক্ষরগুলোর মধ্যভাগ এবং পাশের ঘনত্ব একই রকম। এগুলো দেখার জন্য চোখের ফোকাস সহজেই
করা যায়, অন্যদিকে মনিটরের অক্ষরগুলোর শুধু মধ্যভাগ ভালো দেখা যায়, কিন্তু পার্শ্বভাগের ঘনত্ব কম হওয়ায় ফোকাসে পরিষ্কার আসে না। মনিটরের অক্ষরগুলোর
এ ফোকাসের অসমতার জন্য চোখের কাছে
দেখার অ্যাকোডোমেশন প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।
কম্পিউটারের চশমা
সাধারণ পড়ালেখায় সময় ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চি দূরে পড়ার জন্য যে পাওয়ারের চশমা লাগে, কম্পিউটারে কাজ করার সময় ১৮ থেকে ২৮ ইঞ্চি দূরে মনিটর রেখে সে পাওয়ার দিয়ে ভালো দেখা যায় না। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা কম্পিউটারে কাজ করার জন্য বিশেষ পাওয়ারের চশমা দিয়ে থাকেন, যার নাম কম্পিউটার চশমা। ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের ইউনিফোকাল বা শুধু একটি পাওয়ারের চশমা দিলেই চলে, কিন্তু পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য কোনো কোনো সময় ইউনিফোকাল চশমা দিয়ে তুলনামূলক কাছে কপি পড়তে অসুবিধা হতে পারে- তাদের মাল্টি ফোকাল চশমা দিলে কপি পড়া এবং মনিটরে কাজ করার সুবিধা হয়।
সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার নয়টি উপায়
চোখ পরীক্ষা
কম্পিউটারে কাজ করার আগে চক্ষু পরীক্ষা করে চোখের কোনো পাওয়ার থাকলে অবশ্যই চশমা ব্যবহার করতে হবে। চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কম্পিউটার আই গ্লাস ব্যবহার করতে হবে।
সঠিক আলোর ব্যবহার
ঘরের ভেতর বা বাইরে থেকে আসা অতিরিক্ত আলো চোখের ব্যথার কারণ হতে পারে। বাইরে থেকে আলো এসে চোখেও লাগে না বা কম্পিউটার পর্দায়ও পড়ে না- সেজন্য পর্দা, ব্লাইন্ড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের আলো- টিউবলাইট বা ফ্লোরেসেন্ট বাল্বের আলো হলে এবং স্বাভাবিক অফিসের আলোর চেয়ে কিছুটা কম হলে চোখের জন্য আরামদায়ক।
গ্লেয়ার কমানো
কম্পিউটার মনিটরে আন্টি গ্লেয়ার স্ক্রিন ব্যবহার করে এবং চশমায় অ্যান্টি রিফ্লেকটিভ প্লাস্টিকের কাচ ব্যবহার করলে গ্লেয়ার কমানো যায়।
মনিটরে ‘ব্রাইটনেস’ সমন্বয়
ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে কম্পিউটার মনিটরের আলো কমানো বা বাড়ানো যায় যাতে মনিটরে লেখাগুলো দেখতে আরামদায়ক হয়।
ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন
কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের পলক পড়া কমে যায়। এর ফলে চোখের পানি কমে যায় ও চক্ষু শুষ্কতা বা ড্রাই আই হতে পারে। এ অবস্থায় চোখ কাটা কাটা ভাব অনুভূত হবে। চোখে অস্বস্তি ও ক্লান্তি আসবে। কম্পিউটারে কাজের সময় ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন। এরপরও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চোখের কৃত্রিম পানি ব্যবহার করুন।
চোখের ব্যায়াম
৩০ মিনিট কম্পিউটারে কাজ করার পর অন্যদিকে দূরে তাকান। সম্ভব হলে ঘরের বাইরে কোথাও দেখুন এবং আবার কাছে অন্য কিছু দেখুন। এতে চোখের বিভিন্ন ফোকাসিং মাংসপেশির ব্যায়াম হবে। এভাবে কয়েকবার করে আবার কিছুক্ষণ কাজ করুন।
মাঝে মধ্যে কাজের বিরতি দিন
কাজের মাঝে মধ্যে কয়েক মিনিটের বিরতি দিন। এক ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করে ৫-১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে অন্য কোনো দিকে দেখুন বা অন্য কোনো কাজে সময় কাটিয়ে আবার কম্পিউটারের কাজ শুরু করতে পারেন। বিশেষজ্ঞের মতে, দুই ঘণ্টা একটানা কম্পিউটারে কাজ করে ১০-২০ মিনিটের বিরতি দিলেও একই রকম ফল পাওয়া যায়।
কাজের জায়গার পরিবর্তন
কম্পিউটারে কাজ করার চেয়ারটি হাইড্রোলিক হলে ভালো হয়, এতে কাজের সময় চোখের উচ্চতা কম্পিউটার মনিটরের চেয়ে সামান্য উঁচুতে থাকে। মনিটর চোখের বরাবর থাকতে হবে। মনিটর বাঁকা থাকলে অক্ষরগুলোর পরিবর্তন হতে পারে, এটি চোখের ব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক সময় টাইপ করার কপি এখানে সেখানে রেখে বারবার মনিটর থেকে অনেক দূরে কপি দেখতে হয়। এতেও মাথাব্যথা ও চোখেব্যথা হতে পারে। মনিটরের পাশে পরিমিত আলো ফেলে কপি স্ট্যান্ডে লেখাগুলো রাখা যেতে পারে। তাতে বারবার চোখের অ্যাকোমোডেশনের পরিবর্তন কম হবে ও কাজ আরামদায়ক হবে।
কাজের ফাঁকে ফাঁকে ব্যায়াম করা
কম্পিউটারে কাজের সময় শুধু চোখের বা মাথাব্যথা হয় না, অনেকেরই ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা, কোমরে ব্যথা- এসব উপসর্গ হতে পারে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে হাত, পা ও কাঁধের নাড়াচাড়া করা হয় বা ব্যায়াম করা গেলে ওপরের উপসর্গগুলো থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব - See more at: http://www.jugantor.com/stay-well/2014/01/11/58138#sthash.SSeWBPF9.dpuf
গর্ভবতী নারীরা কি প্রয়োজনে ঘুমের ঔষুধ খেতে পারবেন?
প্রশ্ন: গর্ভবতী নারীরা কি প্রয়োজনে ঘুমের ওষুধ খেতে পারবেন?
উত্তর: গর্ভবতী নারীদের ঘুমের সমস্যা প্রায়ই হয়ে থাকে। ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে, পা ব্যথা বা কামড়ানো, কোমর বা পেটে অস্বস্তি, বারবার শৌচাগারে যাওয়া বা গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়ার জন্য ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রচলিত প্রায় সব ঘুমের ওষুধই গর্ভাবস্থায় সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ। এই সময় তাই শিথিলায়ন পদ্ধতি, মনকে চিন্তামুক্ত ও প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা, ঘুমের আগে বই পড়ার অভ্যাস ইত্যাদি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। ভালো ঘুম হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গুরুতর সমস্যা হলে ওষুধ দু-এক দিনের জন্য খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।
ডা. মুনা সালিমা জাহান,
স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ,
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল।
উত্তর: গর্ভবতী নারীদের ঘুমের সমস্যা প্রায়ই হয়ে থাকে। ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে, পা ব্যথা বা কামড়ানো, কোমর বা পেটে অস্বস্তি, বারবার শৌচাগারে যাওয়া বা গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়ার জন্য ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রচলিত প্রায় সব ঘুমের ওষুধই গর্ভাবস্থায় সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ। এই সময় তাই শিথিলায়ন পদ্ধতি, মনকে চিন্তামুক্ত ও প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা, ঘুমের আগে বই পড়ার অভ্যাস ইত্যাদি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। ভালো ঘুম হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গুরুতর সমস্যা হলে ওষুধ দু-এক দিনের জন্য খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।
ডা. মুনা সালিমা জাহান,
স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ,
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল।
ওষুধ নয়, এই পাঁচ অ্যাপ-ই গভীর ঘুমের চাবিকাঠি

১. স্লিপ সাইকেল অ্যাপ
আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পেয়ে যাবেন এই অ্যাপ। তবে ফ্রি নয়। টাকা দিয়ে কিনতে হবে। 'স্লিপ সাইকেল অ্যাপ' আপনার ঘুমের বিভিন্ন স্তরকে মনিটর করে। ঘুমের তিনটি স্তর হয়, হালকা ঘুম (Light sleep), গভীর ঘুম (Deep Sleep) ও স্বপ্নের স্তর (REM or Rapid Eye Movement sleep)। এই প্রত্যেকটি স্তর ৯০ মিনিট করে স্থায়ী হয়। এবং আপনি কতক্ষণ ঘুমোচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে এই স্তরগুলির আসা-যাওয়া। স্লিপ সাইকেল অ্যাপ, বিছানায় আপনার নড়াচড়ার গতিবিধি ট্র্যাক করে। এই অ্যাপ আপনাকে জানিয়ে দেবে, কতবার আপনার ঘুম হালকা হয়েছে। কতবার আপনার ঘুম কোনও কারণে ভেঙেছে। এবং কী ভাবে শুতে পারলে, ওই সময় ঘুমটা গাঢ় হবে।
২. স্লিপ জিনিয়াস অ্যাপ
অ্যাপ-টি আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডে পেয়ে যাবেন। ফ্রি নয়। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই অ্যাপে এমন কিছু সাউন্ড বা মিউজিক আছে, যা আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। অবসাদ বা দুশ্চিন্তা থাকলে, তা কাটিয়ে দিতে সাহায্য করবে 'স্লিপ জিনিয়াস অ্যাপ'। এই অ্যাপ-এর সাউন্ড মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে। এই অ্যাপ-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধেটি হল, পাওয়ার ন্যাপ অপশন। খানিক্ষণের ক্লান্তি কাটাতে পাওয়ার ন্যাপ অপশন দারুণ কাজ করে।
৩. রিল্যাক্স মেলোডিজ অ্যাপ
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ২০১২ সালে অ্যামজন-এর বিচারে সেরা স্লিপ অ্যাপ নির্বাচিত হয় রিল্যাক্স মেলোডিজ অ্যাপ। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত স্লিপ অ্যাপ হল রিল্যাক্স মেলোডিজ। মোট ৫২টি শব্দ বা মিউজিক রয়েছে এই অ্যাপ-এ। ক্লান্তি, অবসাদ দূর করে মনকে চাঙ্গা করে দেয়। ঘুম এসে যায়।
৪. অ্যাস্লিপ
শুধুমাত্র আইফোনে পাওয়া যায়। বিনামূল্যে নয়। স্লিপ অ্যাপ-গুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। ২০০৮ সালে তৈরি করা হয়েছিল। শুধু ঘুম নয়, যোগ ব্যায়াম, ধ্যান করার সময়ও এই অ্যাপ ব্যবহার করলে অসাধারণ ফল পাওয়া যায় বলেই দাবি ব্যবহারকারীদের। অবসাদ ও ক্লান্তি কাটিয়ে মস্তিষ্ককে আরাম দেয় অ্যাস্লিপ। একই সঙ্গে শিশুদের ঘুম পাড়ানোর জন্য বা ভুলিয়ে রাখার জন্যও এই অ্যাপ অপরিহার্য।
৫. স্লিপমেকার রেইন অ্যাপ
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে পাওয়া যায় বিনা মূল্যে। প্রবল বৃষ্টির শব্দ অনেক সময়ই ঘুমের জন্য আদর্শ। স্লিপ মেকার রেইন-ও সেই কাজটাই করে। কোনও রকম প্রযুক্তির সাহায্য না নিয়ে, একেবারে সত্যিকারের প্রবল বৃষ্টির শব্দই এই অ্যাপে রেকর্ড করা রয়েছে। বিভিন্ন প্রকৃতির বৃষ্টির শব্দ রয়েছে। ১ মিনিট থেকে ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত টাইম সেট করা যায়। অর্থাত্ যতক্ষণ ঘুমোবেন বা রিল্যাক্স করবেন, ততক্ষণ মনে হবে, বাইরে বৃষ্টি পড়ছে অনবরত। অ্যাপ-এর দুনিয়ায় খুবই জনপ্রিয় স্লিপমেকার রেইন। সূত্র: এই সময়
ঘুমের ওষুধে ক্ষতি
সুমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সারাদিন কাজের
চাপ, মানসিক ক্লান্তির পরও নানান
চিন্তায় রাতে ভালো ঘুম হয় না তার! আবার সকাল হলেই ছুটতে হয় জীবিকার তাগিদে। তাই
ঘুম পুষিয়ে নিতে তিনি অল্প মাত্রার ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে যান।
এভাবে চলার সপ্তাহখানেক পর সুমি লক্ষ করলেন আগের মাত্রার ঘুমের ওষুধেও ঘুম হচ্ছে না তাই ওষুধের মাত্রা বাড়াতে হয়। এভাবে একটা সময় ঘুমের ওষুধের ওপর পুরোপুরি আসক্ত হয়ে পড়লেন তিনি।
সাধারণত রোগীদের ঘুমের সমস্যা দূর করতে ডাক্তাররা ঘুমের ওষুধ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মানসিক চাপ, অবসাদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে ভালো ঘুমের আশায় অনেকেই ঘুমের ওষুধ নিয়ে থাকেন।
তবে ঘুমের উদ্দেশ্যে নিয়মিত নেওয়া হলে একটা সময় শরীর ওই ওষুধটির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘুম ভালো হওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুমের ওষুধ নেওয়া হলেও এ অভ্যাসের দীর্ঘকালীন প্রভাব পড়ে শরীরে উপর। আর সেটি অত্যন্ত খারাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ঘুম এবং মৃগীরোগ বিভাগের পরিচালক কার্ল বাজিল এ বিষয়ে বলেন, “যারা ঘুমের ওষুধ নেন তারা ভালোভাবেই জানেন এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এটি শরীরে কি পরিমাণে ক্ষতি করে এটি তারা জানেন না।”
তিনি আরও বলেন, “ঘুম না হওয়ার সহজ সমাধান হিসেবে কাজ করে ঘুমের ওষুধ। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান এটি নয়। বরং বেশিদিন ঘুমের ওষুধ গ্রহণের অভ্যাস লিভার এবং কিডনির ক্ষতি করে।”
রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিষন্নতায় ভোগার পরিমাণ কিছুটা বেশি। আর এই মানসিক অবসাদ থেকে বাঁচতে তারা ঘুমের ওষুধের সাহায্য নেয়। তবে একবারে বেশি ঘুমের ওষুধ খাওয়া হলে তা লিভার এবং কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। আর দীর্ঘদিনের অভ্যাস খুব ধীরে ক্ষতি করবে।”
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটটিতে জানানো হয়, ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে উঠার পরেও অনেক সময় সারাদিন এর প্রভাব থেকে যায়। যা কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। যারা গাড়ি চালান তাদের জন্য এটি খুবই বিপদজনক। কারণ কিছু ঘুমের ওষুধে পরের দিন পর্যন্ত ‘হ্যাংওভার’ অনুভূত হয়ে থাকে। আর মাতালভাব নিয়ে গাড়ি চালানো বা রাস্তায় হাঁটাচলা করা একেবারেই নিরাপদ নয়।
ডা. কামরুল বলেন, “ঘুমের ওষুধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে। এর ফলে হ্যালুশিনেশন এবং বিভ্রান্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া ঘুমের ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়লে তা পানি পিপাসা কমিয়ে দেয়, এতে করে শরীরে পানি শূণ্যতা দেখা দিতে পারে ফলে তা কিডনিতে প্রভাব ফেলে। এ কারণে অনেক সময় হেপাটাইটিস ধরনের রোগও হতে পারে।”
সব ধরনের ঘুমের ওষুধ একই ধরনের প্রভাব ফেলে না। ডা. কামরুল জানান, ঘুমের ওষুধের প্রভাব ভেদে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এক ধরনের ওষুধ মস্তিষ্ককে উদ্দীপনা জাগায়।
অপরটি হিপনোটিপ, বা ওই ওষুধগুলোর কারণে গ্রহণকারীর হ্যালুশিনেশন বা ভ্রান্তির সমস্যাগুলো দেখা দেয়। আর অপর ধরনের ঘুমের ওষুধের তালিকায় রয়েছে বহুল প্রচলিত নেশা দ্রব্যগুলো। এগুলো গ্রহণে খুব সহজেই আসক্ত হয়ে যায়।
ডা: কামরুল আরও জানান, কিছু কিছু ঘুমের ওষুধের আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য ওষুধ পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ আসক্তি থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে অন্য ওষুধ তেমন একটা কাজ করে না। এ ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা এবং পরিবারের সাহায্যই বেশি জরুরি।
এভাবে চলার সপ্তাহখানেক পর সুমি লক্ষ করলেন আগের মাত্রার ঘুমের ওষুধেও ঘুম হচ্ছে না তাই ওষুধের মাত্রা বাড়াতে হয়। এভাবে একটা সময় ঘুমের ওষুধের ওপর পুরোপুরি আসক্ত হয়ে পড়লেন তিনি।
সাধারণত রোগীদের ঘুমের সমস্যা দূর করতে ডাক্তাররা ঘুমের ওষুধ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মানসিক চাপ, অবসাদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে ভালো ঘুমের আশায় অনেকেই ঘুমের ওষুধ নিয়ে থাকেন।
তবে ঘুমের উদ্দেশ্যে নিয়মিত নেওয়া হলে একটা সময় শরীর ওই ওষুধটির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘুম ভালো হওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুমের ওষুধ নেওয়া হলেও এ অভ্যাসের দীর্ঘকালীন প্রভাব পড়ে শরীরে উপর। আর সেটি অত্যন্ত খারাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ঘুম এবং মৃগীরোগ বিভাগের পরিচালক কার্ল বাজিল এ বিষয়ে বলেন, “যারা ঘুমের ওষুধ নেন তারা ভালোভাবেই জানেন এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এটি শরীরে কি পরিমাণে ক্ষতি করে এটি তারা জানেন না।”
তিনি আরও বলেন, “ঘুম না হওয়ার সহজ সমাধান হিসেবে কাজ করে ঘুমের ওষুধ। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান এটি নয়। বরং বেশিদিন ঘুমের ওষুধ গ্রহণের অভ্যাস লিভার এবং কিডনির ক্ষতি করে।”
রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিষন্নতায় ভোগার পরিমাণ কিছুটা বেশি। আর এই মানসিক অবসাদ থেকে বাঁচতে তারা ঘুমের ওষুধের সাহায্য নেয়। তবে একবারে বেশি ঘুমের ওষুধ খাওয়া হলে তা লিভার এবং কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। আর দীর্ঘদিনের অভ্যাস খুব ধীরে ক্ষতি করবে।”
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটটিতে জানানো হয়, ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে উঠার পরেও অনেক সময় সারাদিন এর প্রভাব থেকে যায়। যা কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। যারা গাড়ি চালান তাদের জন্য এটি খুবই বিপদজনক। কারণ কিছু ঘুমের ওষুধে পরের দিন পর্যন্ত ‘হ্যাংওভার’ অনুভূত হয়ে থাকে। আর মাতালভাব নিয়ে গাড়ি চালানো বা রাস্তায় হাঁটাচলা করা একেবারেই নিরাপদ নয়।
ডা. কামরুল বলেন, “ঘুমের ওষুধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে। এর ফলে হ্যালুশিনেশন এবং বিভ্রান্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া ঘুমের ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়লে তা পানি পিপাসা কমিয়ে দেয়, এতে করে শরীরে পানি শূণ্যতা দেখা দিতে পারে ফলে তা কিডনিতে প্রভাব ফেলে। এ কারণে অনেক সময় হেপাটাইটিস ধরনের রোগও হতে পারে।”
সব ধরনের ঘুমের ওষুধ একই ধরনের প্রভাব ফেলে না। ডা. কামরুল জানান, ঘুমের ওষুধের প্রভাব ভেদে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এক ধরনের ওষুধ মস্তিষ্ককে উদ্দীপনা জাগায়।
অপরটি হিপনোটিপ, বা ওই ওষুধগুলোর কারণে গ্রহণকারীর হ্যালুশিনেশন বা ভ্রান্তির সমস্যাগুলো দেখা দেয়। আর অপর ধরনের ঘুমের ওষুধের তালিকায় রয়েছে বহুল প্রচলিত নেশা দ্রব্যগুলো। এগুলো গ্রহণে খুব সহজেই আসক্ত হয়ে যায়।
ডা: কামরুল আরও জানান, কিছু কিছু ঘুমের ওষুধের আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য ওষুধ পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ আসক্তি থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে অন্য ওষুধ তেমন একটা কাজ করে না। এ ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা এবং পরিবারের সাহায্যই বেশি জরুরি।
Monday, April 27, 2015
Healthcare China 2015 Agenda.
www.healthonlinebd24.blogspot.com
The Healthcare China 2015 represents the first inclusive dialogue focusing on healthcare industry and capital, two major core attentions. At the time when three main exhibitions of ReedSinopharm- CMEF, PharmChina, and API China- are held in Shanghai, coupled with The Health Industry Summit (tHIS), a global forum joined by healthcare industry leaders that clusters meetings as a whole, we will develop a brain storm themed with “Initiating New Industry Dream with Intelligent Capital”, among the premier guests from government agencies, worldwide industry leaders, technology pioneers and top investment agencies. We aim to find out solutions to the key and hot issues occurring during the transition period, present the most authoritative, edge-cutting, comprehensive and unique analytical viewpoints, discuss broadly the new opportunities and trends under the new normal of industrial investment, and explore extensively the logic regarding industry and financing integration and matching at the entire industry chain; meanwhile, we plan to invite Internet influential figures to conduct debates relating to industry blueprint in future. In all, the Healthcare China 2015 will invite elites across the industry both home and abroad, to seek future’s development and landscape in China healthcare industry from multiple dimensions and hot points involving medical services, investment acquisitions, industry regulation and technological innovation.
We hope to build the Healthcare China into a new driving force for the new normal of service-led China healthcare industry, a wide platform for innovation and start-up and an important carrier to realize Chinese Dream by all-part efforts.
Organized by: Reed Sinopharm Exhibtions, Sinopharm Capital and CICC
Venue: Western Hall, National Exhibition and Convention Center (Shanghai)
Who should participate in the forum?
Biotechnology companies, new drug development companies, large international pharmaceutical factories, venture capital firms, IT companies, law firms, accounting firms, medical insurance companies, hospital groups, government departments and scientific research institutes
Middle- & early-phase biopharmaceutical and medical device projects who are seeking external professional investors and private medical institutions
Innovation and start-up team seeking arrival of projects and funds support
Experts and professors from domestic and foreign universities and scientific research institutes who are seeking opportunities for industrial cooperation
Domestic and overseas venture capital funds, equity funds, angel investment funds, private investors, and investment companies who are looking for potential investment projects
Domestic and foreign listed companies and multinational enterprise executives who are seeking business cooperation and M&A opportunities
Local government and biotechnology park principals who are seeking to attract foreign investment
Investment banks, lawyers, accountants and consulting company executives who are looking for potential customers
Theme: Initiating New Industry Dream with Intelligent Capital
The preliminary agenda for the meeting
The Healthcare China 2015 represents the first inclusive dialogue focusing on healthcare industry and capital, two major core attentions. At the time when three main exhibitions of ReedSinopharm- CMEF, PharmChina, and API China- are held in Shanghai, coupled with The Health Industry Summit (tHIS), a global forum joined by healthcare industry leaders that clusters meetings as a whole, we will develop a brain storm themed with “Initiating New Industry Dream with Intelligent Capital”, among the premier guests from government agencies, worldwide industry leaders, technology pioneers and top investment agencies. We aim to find out solutions to the key and hot issues occurring during the transition period, present the most authoritative, edge-cutting, comprehensive and unique analytical viewpoints, discuss broadly the new opportunities and trends under the new normal of industrial investment, and explore extensively the logic regarding industry and financing integration and matching at the entire industry chain; meanwhile, we plan to invite Internet influential figures to conduct debates relating to industry blueprint in future. In all, the Healthcare China 2015 will invite elites across the industry both home and abroad, to seek future’s development and landscape in China healthcare industry from multiple dimensions and hot points involving medical services, investment acquisitions, industry regulation and technological innovation.
We hope to build the Healthcare China into a new driving force for the new normal of service-led China healthcare industry, a wide platform for innovation and start-up and an important carrier to realize Chinese Dream by all-part efforts.
Organized by: Reed Sinopharm Exhibtions, Sinopharm Capital and CICC
Venue: Western Hall, National Exhibition and Convention Center (Shanghai)
Who should participate in the forum?
Biotechnology companies, new drug development companies, large international pharmaceutical factories, venture capital firms, IT companies, law firms, accounting firms, medical insurance companies, hospital groups, government departments and scientific research institutes
Middle- & early-phase biopharmaceutical and medical device projects who are seeking external professional investors and private medical institutions
Innovation and start-up team seeking arrival of projects and funds support
Experts and professors from domestic and foreign universities and scientific research institutes who are seeking opportunities for industrial cooperation
Domestic and overseas venture capital funds, equity funds, angel investment funds, private investors, and investment companies who are looking for potential investment projects
Domestic and foreign listed companies and multinational enterprise executives who are seeking business cooperation and M&A opportunities
Local government and biotechnology park principals who are seeking to attract foreign investment
Investment banks, lawyers, accountants and consulting company executives who are looking for potential customers
Theme: Initiating New Industry Dream with Intelligent Capital
The preliminary agenda for the meeting
| Time |
Part/Theme
|
Topic
|
|
May 15(Friday)
|
|
|
|
09:00-09:30
|
Opening Ceremony (Main Session) |
|
|
09:30-10:45
|
General Meeting:
Initiating New Industry Dream with Intelligent Capital |
Topic: China Health Reform and Health Service Industry Development
|
|
Topic: Strategic Landscape for China’s Greater Health Industry Platform Construction
|
||
|
|
||
|
10:45-11:00
|
Tea Break |
|
|
11:00-12:30
|
Internet thinking on Industry Integration
Growth Logic for Medical Healthcare Industry Brilliance in Internet-driving Innovation Intelligent Medical Ecosystem Construction by Integration |
Round-table Dialogue
|
|
12:30-13:30
|
Business Lunch |
|
|
13:30-15:30
|
Sub-forum 1: Medical Service (No.1 sub-session) Medical Service Industry Development Pattern and Investment Opportunities
|
Topic: New Progress in Public Hospital Reform
|
|
Topic: Analysis on International Medical Management Model
|
||
|
Round-table Dialogue
|
||
|
15:30-15:45
|
Tea Break
|
|
|
15:45-17:45
|
Sub-forum 2: M&A and Integration (No.1 sub-session) New Logic for China Health Industry M&A
|
Topic: Development trends for health industry and M&A Fund
|
|
Topic: Value and Positioning of Financial Consultant in M&A Process
|
||
|
Round-table Dialogue
|
||
|
13:30-15:30
|
Sub-Forum 3: Supervision Strategies (Sub-session No.2) New Trends for Health Industry Regulation
|
Topic: New Idea for Drug Regulation
|
|
Topic: New Idea for Medical Apparatus Regualation
|
||
|
Topic: New Idea for Medical Insurance Payment Reform
|
||
|
Roundtable Dialogue
|
||
|
15:30-15:45
|
Tea Break
|
|
|
15:45-17:45
|
Sub-forum 4: Debate on Innovation (No.2 Sub-session) The Path of R & D Innovation
|
Topic: Looking at R&D Innovation from Investment Perspective
|
|
Topic: Growing Path of International Innovative Enterprises
|
||
|
Roundtable Dialogue
|
||
|
18:00-20:00
|
2014 Award Ceremony for the Enterprise with the Most Investment Value in China’s Medical Healthcare Industry |
|
|
May 16(Saturday)
|
|
|
|
09:00-12:00
|
Overseas Project Matching Meeting | |
Subscribe to:
Posts (Atom)





